insta logo
Loading ...
×

বিচারের বাণীতে হাহাকার আর শূন্যতা

বিচারের বাণীতে হাহাকার আর শূন্যতা

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া :

চাকরি বাতিলের তালিকায় গবেষক থেকে অন্য চাকরি ছেড়ে আসা শিক্ষকরা। কোথাও পিওনের চাকরি গেছে বলে ঘন্টা দিতে হচ্ছে খোদ ভারপ্রাপ্ত শিক্ষককে। একের পর এক স্কুলে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক শূন্য হয়ে গিয়েছে। কোথাও ইতিহাস, কোথাও রাষ্ট্রবিজ্ঞান, কোথাও আবার জীববিদ্যা, পদার্থবিদ্যা, অঙ্ক। সবে মিলে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ২৬ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিল হতেই জেলা জুড়ে হাহাকার আর শূন্যতা।

স্কুল সার্ভিস কমিশনের মেধা তালিকায় থাকা ইংরেজি বিষয়ে সারা রাজ্যে প্রথম স্থান দখল করা শিক্ষক শুভাশিস পানের নামও রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে চাকরি বাতিলের তালিকায়। বাতিল ইতিহাস বিষয়ে সারা রাজ্যে সপ্তম স্থানাধিকারী রঞ্জন মাহাতোর শিক্ষকতার চাকরিও। বাতিলের তালিকায় আছেন রসায়ন বিষয়ে পিএইচডি করা সোমনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের ‘কৃতি’ শিক্ষকেরা এভাবে চাকরি হারা হওয়ায় হতবাক জেলা। হতাশায় ভেঙে পড়েছেন এই কৃতি শিক্ষকেরা।

কমিশনের পরীক্ষায় ইংরাজিতে রাজ্যে প্রথম হওয়া বাঁকুড়ার ইন্দপুর থানার কেলিয়াপাথর গ্রামের বাসিন্দা, গাড়াফুসড় হাইস্কুলের শিক্ষক
শুভাশিস পান বলেন, “আমার ভাবতে অবাক লাগে সুপ্রিম কোর্ট অযোগ্যদের বেছে বেতন বন্ধ করার আদেশ দিল। অথচ আমরা যারা যোগ্য, তাদের প্রতিও অবিচারের বাণী শুনিয়ে দিল।”

পাড়া ব্লকের ভাগাবাঁধ হাই স্কুলের শিক্ষক রমেশচন্দ্র মাহাত বলেন, “চাকরি পেয়ে লোন নিয়ে বাড়ি বানিয়েছিলাম। এই রায় স্তম্ভিত করে দিয়েছে। আমরা যোগ্য, আমাদের পাশে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
পাশে থাকবেন বলেই বিশ্বাস রাখি।”

রঘুনাথপুর হাইস্কুলের শিক্ষক কৈলাশ বাউরি বলেন, “সিবিআই দীর্ঘ তদন্তের পরেও কারা যোগ্য আর কারা অযোগ্য সেটা বেছে নিয়ে তদন্ত রিপোর্ট দিতে পারল না এটাই সবচেয়ে আশ্চর্যের।”

গত বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের রায়ে পুরুলিয়ার বরাবাজার ব্লকের ঢেলাতবামু গ্রাম পঞ্চায়েতের বদলডি উচ্চ বিদ্যালয় তিনজনের চাকরি যায়। তার মধ্যে একজন জীববিদ্যা বা বায়োলজির শিক্ষক। আর দু’জন গ্রুপ সি কর্মী উত্তম বালা ও গ্রুপ ডি-র কর্মী বটকৃষ্ণ বর্মনের। তাই স্কুলের দরজা-জানলা খোলা থেকে ঘন্টা পেটানো সব কাজ-ই নিজ হাতে করতে হচ্ছে টিচার- ইন-চার্জকে।

টিচার-ইন-চার্জ জগদীশ সিং সর্দার বলেন, ” পরীক্ষা চলছে। একদিকে খাতা দিতে হচ্ছে। সেই সঙ্গে সময়মতো ঘন্টা পেটানো। এভাবে কত দিন চলবে, কী করবো আমরা কিছুই বুঝতে পারছি না। ” এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জীববিদ্যার শিক্ষক মলয় মুখোপাধ্যায়। তাঁর বাড়ি বাঁকুড়ার বড়জোড়ায়। তিনি আগে কৃষি দপ্তরের আধিকারিক ছিলেন। অ্যাসিস্ট্যান্ট
টেকনলজি ম্যানেজার হিসাবে ওই দফতরে আতমা প্রকল্পের কাজ দেখভাল করতেন। স্কুল সার্ভিস কমিশনে নবম-দশম বিভাগে তিনি উপযুক্ত যোগ্যতাসম্পন্ন। তিনি বলেন, “যোগ্য, দুর্নীতিমুক্ত হওয়ার পরেও চাকরি কেন যাবে। এটাই আমার প্রশ্ন। ” এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ওই জীববিদ্যার শিক্ষক শুধু তার বিষয়ের ক্লাস গুলো করেই চুপ থাকতেন না। জঙ্গলমহলের ওই এলাকায় এই বিদ্যালয়কে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। তিনি চাকরি হারা হওয়ায় ওই স্কুল কৃতি শিক্ষককে হারালো। জীববিদ্যা এবার কে পড়াবেন ওই স্কুলে? জানেন না কেউ।

Post Comment