নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝালদা:
যখন বাগদেবীর আরাধনায় মাতোয়ারা মানুষ। তখন ঝালদার আনন্দবাজারে চোখে পড়ল এক ব্যতিক্রমী ছবি। উৎসবের স্রোতের উল্টো পথে হেঁটে, বাগদেবীর পুজোর মাঝেই সেখানে পালিত হলো বিশ্বকর্মা পুজো। একদিকে প্রচলিত সময়সূচি, অন্যদিকে শতাব্দীপ্রাচীন পারিবারিক রীতি-এই দুইয়ের টানাপোড়েনেই জন্ম নিল এই ব্যতিক্রমী আয়োজন।
সাধারণত ভাদ্র মাসে বিশ্বকর্মা পুজো হলেও ঝালদার আনন্দবাজারের সূত্রধর সম্প্রদায়ের কাছে সময় নয়, রীতিই শেষ কথা। তাঁদের বিশ্বাস, পূর্বপুরুষদের দেখানো পথ ধরে সরস্বতী পুজোর দিনেই বিশ্বকর্মা-র আরাধনা করাই তাদের সংস্কৃতির অংশ। ওই
বিশ্বকর্মা পুজো কমিটির সদস্যরা জানান, “ভাদ্র মাস জুড়ে তারা মাটির মূর্তি তৈরির কাজে এতটাই ব্যস্ত থাকেন যে তখন পুজো আয়োজন করা কার্যত অসম্ভব। তাই কর্মব্যস্ততার মাঝেই কাজের দেবতার কাছে কৃতজ্ঞতা জানাতে এই বিশেষ দিনটিকেই বেছে নেওয়া হয়। এটা আমাদের কাছে অসময়ের পুজো নয়। এটা আমাদের পরম্পরা। কাজের মধ্যেই বিশ্বকর্মা আমাদের শক্তি দেন, তাই এই দিনেই আমরা পুজো করি।”
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এটি শুধুমাত্র একটি সম্প্রদায়ভিত্তিক পুজো হলেও আনন্দবাজারের মন্দিরে টানা ২৬ বছর ধরে এই আয়োজন হয়ে আসছে। তিন দিন ব্যাপী এই পুজোয় প্রতিবছরই আশপাশের এলাকার বহু মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। যা এই রীতির সামাজিক গ্রহণযোগ্যতাকেই তুলে ধরে।











Post Comment