দেবীলাল মাহাত , আড়শা:
‘বারো দিনে বারনি, তেরো দিনে রহনি’।কৃষিজীবি পুরুলিয়ার মানুষের কৃষিভিত্তিক উৎসব হল রোহিন। মাটির উৎসব রোহিনে প্রতিবছরের মতো এবছরও ১৩ই জৈষ্ঠ্য বুধবার আনন্দে মেতে উঠছে জঙ্গলমহলের আপামর কৃষিজীবী মানুষ। জঙ্গলমহলের অত্যন্ত জনপ্রিয় লোক উৎসব রোহিনকে ঘিরে উৎসবের মেজাজ ঘরে ঘরে।
আসলে এই উৎসবের দিন থেকেই পুরুলিয়ায় শুরু হল নতুন কৃষিবর্ষ। কৃষিবর্ষর সূচনাকে কেন্দ্র করে থাকে নানা সংস্কার, নিয়ম। থাকে কৃষিজীবী মানুষের কাজের ব্যস্ততা। এদিন ভোর বেলায় বাড়ির মহিলারা দেওয়ালে গোবরের রেখা দিয়ে গন্ডী কেটে দেন।তাদের বিশ্বাস এর ফলে বাড়িতে কীট,পতঙ্গ বা অপদেবতা প্রবেশ করতে পারে না। এদিন কৃষকেরা চাষের জমিতে বীজ ফেলেন। তাতে ফলনে পোকা বা রোগ হয় না,বলে তাদের ধারনা। ফলনও ভালো হয়ে থাকে। অনেকে আবার বাড়ির উঠোনে নতুন তুলসী মঞ্চ প্রতিষ্ঠা করেন। বিকালে বাড়ির মেয়েরা জমি থেকে খানিকটা মাটি সংগ্রহ করে বাড়ির কোণে বা তুলসী মঞ্চে রাখেন। এই মাটিকে তারা অত্যন্ত পবিত্র বলে মনে করে। তাই নয়, এদিন গ্রামের ছেলে মেয়েরাও আনন্দে মেতে ওঠেন । তারা মুখে কালি,রং মেখে বাদ্য যন্ত্র বাজিয়ে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে বেড়ায়।

এই ভাবে বাড়ির সকলে আনন্দে উৎসবে মেতে ওঠে রহিন উৎসবে। আধুনিকতার যন্ত্রদানব লোকসংস্কৃতির কোমল হৃদয়ে থাবা বসালেও আজও পুরুলিয়ার কৃষিজীবি মানুষ যুগযুগ ধরে চলে আসা রোহিন উৎসবের পালনের মধ্য দিয়ে ধরে রেখেছে তাদের সংস্কৃতি,তাদের ঐতিহ্য। এদিন থেকেই চাষের জন্য পুরোপুরি মাঠে নেমে পড়েন কৃষকরা। যা চলে আমন ধান বাড়ি তোলা পর্যন্ত। কাশিপুর মাইকেল মধুসূদন মহাবিদ্যালয়ের বাংলার অধ্যাপক ডঃ ক্ষীরোদ চন্দ্র মাহাত জানান, “কৃষিজীবি মানুষের কাছে দিনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।কৃষি উৎসব হিসেবে দিনটি জঙ্গলমহল জুড়ে পালিত হয়।”










Post Comment