insta logo
Loading ...
×

পুরুলিয়ায় একাদশীতেও রাবণ দহন

পুরুলিয়ায় একাদশীতেও রাবণ দহন

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝালদা:

দশেরায় তো হয়ই, পুরুলিয়ার একাধিক এলাকায় রাবণ দহন হয় একাদশীতেও। শুক্রবার একাদশীর দিন ঝালদা, জয়পুর বাঘমুন্ডি ও বলরামপুরে আয়োজিত হলো ঐতিহ্যবাহী রাবণ দহন উৎসব। এই ব্যতিক্রমী আয়োজনে অংশ নিতে হাজারো মানুষের ঢল নামে ঝালদা হাটতলা ময়দানে। একইভাবে জয়পুরের বারবেন্দা, বাঘমুন্ডির লহরিয়া ও বলরামপুরের ডাভা এলাকাতেও পালিত হয় এই উৎসব। দশেরা অর্থাৎ দশমীর দিন আনাড়ায় হয় রাবণ দহন ।

ঝালদা আনন্দবাজার সার্বজনীন দুর্গা পূজা কমিটির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই উৎসবকে ম্লান করতে পারেনি বিরূপ আবহাওয়াও। প্রতি বছরের মতো এবছরও দর্শকদের জন্য অন্যতম আকর্ষণ ছিল চোখ ধাঁধানো আতশবাজির প্রদর্শনী। শুভ শক্তির জয় এবং অশুভ শক্তির বিনাশের প্রতীক হিসেবে ধরা হয় এই রাবণ দহনকে।

এবারের রাবণ দহনকে এক বিশেষ মাত্রা দেয় শহিদ স্মরণ। কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হানায় প্রাণ হারানো ঝালদার শহিদ মনীশরঞ্জন মিশ্রকে উৎসর্গ করা হয় এ বছরের অনুষ্ঠান।

উৎসব চলাকালীন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ঝালদা থানার পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। উপস্থিত ছিলেন ঝালদা পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর বিজয় কান্দু, ঝালদা অগ্নিনির্বাপক আধিকারিকসহ অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
কমিটির সদস্য মুকেশ দাস বলেন, “প্রতি বছর ঝালদা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে এই রাবণ দহনের জন্য। শুধু বিনোদন নয়, এর মধ্যে একটা সামাজিক বার্তাও আছে—অশুভের বিনাশ আর শুভ শক্তির জয়।”
স্থানীয় বাসিন্দা ময়ূরাক্ষী দাসের বক্তব্য, “এটি কেবলমাত্র একটি ঐতিহ্য নয়, বরং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে মানুষের ভেতরে শুভ শক্তির বিশ্বাসকে জিইয়ে রাখার এক প্রতীকী উৎসব।”
রাবণ দহন শুধুমাত্র বিনোদনের উৎসব নয়, বরং সমাজকে ঐক্য, বিশ্বাস ও শুভ শক্তির বার্তা দিয়ে যায়।

Post Comment