নিজস্ব প্রতিনিধি পুরুলিয়া:
ফের পুরুলিয়ায় পদার্পণ করতে চলেছেন কুড়মি সমাজের যুব আইকন, জেএলকেএম সুপ্রিমো তথা ঝাড়খণ্ডের ডুমুরি বিধায়ক টাইগার জয়রাম মাহাতো। জয়পুরের ফরেস্টমোড়ে তাঁর ২ নভেম্বরের জনসভা জেলা রাজনীতিতে যে ধাক্কা দিয়েছিল, তার রেশ এখনও কাটেনি। এবার আরও বড় মঞ্চে দ্বিতীয় দর্শন—২৩ নভেম্বর, রবিবার, পুরুলিয়া শহরের ট্যাক্সি স্ট্যান্ডে সভা করবেন তিনি।
সভায় উপস্থিত থাকবেন জেএলকেএম-এর পশ্চিমবঙ্গ পর্যবেক্ষক রাজু মাহাতো, মহিলা মোর্চার কেন্দ্রীয় নেত্রী নিবেদিতা মাহাতো-সহ দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। পুরুলিয়ায় ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু হয়েছে জোরকদমে।
জয়পুরের সভায় টাইগারের রাজনৈতিক নিশানা ছিল সরাসরি তৃণমূলের দিকে। তবে এ বার চিন্তায় বিজেপিও। কারণ টাইগারের দল প্রার্থী দিলে তৃণমূল বিরোধী ভোটেরই ভাগ যাবে—ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বিজেপি।
জেএলকেএম-এর এক নেতাত কথায়, “জয়পুর যদি ট্রেলার হয়, পুরুলিয়া হবে পুরো সিনেমা।”ওই সভায় বড়সড় যোগদান পর্ব হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বৃহস্পতিবার টাইগারের বাড়িতে সেই নিয়ে বৈঠকও করেন স্থানীয় নেতারা।
জঙ্গলমহলের বিভিন্ন আসনে প্রার্থী দেওয়ার সম্ভাবনার কথাও জয়পুরের সভা থেকে ঘোষণা করেছিলেন জয়রাম। সমীক্ষা চলছে। পুরুলিয়ার জয়পুর আসনে প্রার্থী দেবে জেএলকেএম—তা ইতিমধ্যেই নিশ্চিত। তবে সংগঠনগত দিক থেকে খুব শক্তিশালী না হলেও টাইগার নামটাই এখন ব্র্যান্ড, দাবি তাঁদের।
ঝাড়খণ্ডের মতো বাংলার জঙ্গলমহলেও জয়রামকে ঘিরে উন্মাদনা চোখে পড়ার মতো। পুরুলিয়া শহরের ট্যাক্সি স্ট্যান্ডে তৃণমূল ও বিজেপির সভার ঠিক পরেই জেএলকেএম সভা—রাজনৈতিক মহল তাই এই অনুষ্ঠানকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে।
বিজেপির বড় অংশের কুড়মি ভোট এতদিন ধরে তাঁদের সঙ্গেই ছিল। গত লোকসভা নির্বাচনে কুড়মি সমাজের মূল মানতা অজিত প্রসাদ মাহাতো প্রার্থী হলেও সেই ভোট পুরোটা আদিবাসী কুড়মি সমাজের ঝুলিতে যায়নি—অনেকটাই পেয়েছিল বিজেপি। ফলে ভোট-কাটাকাটিতে তৃণমূল সুবিধা পায়নি। শাসক দলের অভিযোগ ছিল, ওই সংগঠনের সঙ্গে বিজেপির বোঝাপড়া ছিল।
কিন্তু টাইগার জয়রাম মাহাতোর আবির্ভাবে সমীকরণ পালটাতে শুরু করেছে। বিজেপি-ঘেঁষা বহু কুড়মি ভোটার এখন ঝুঁকছেন ডুমুরির বিধায়কের দিকেই। জঙ্গলমহলের আগামী ভোট-সমীকরণে তাই টাইগারই বড় ফ্যাক্টর—মেনে নিচ্ছে দুই শিবিরই।











Post Comment