নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝালদা:
ফরওয়ার্ড ব্লকের উদ্যোগে শুক্রবার ঝালদার অরণ্য ভবনে অনুষ্ঠিত হল ‘নেতাজী অন্তর্ধান তদন্তে তাইওয়ান রিপোর্ট’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা। প্রয়াত প্রাক্তন সাংসদ চিত্ত মাহাতোর স্মরণে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে নেতাজী গবেষক সৌমব্রত দাশগুপ্ত ও সৈকত নিয়োগী লন্ডনের অ্যাডাম ম্যাথিক আর্কাইভ থেকে সদ্য উন্মোচিত তাইওয়ান সরকারের ১৯৫৬-এর তদন্ত প্রতিবেদন জনসমক্ষে আনেন।
রিপোর্টে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে— ১৯৪৫-এর ১৮ আগস্ট তাইপেইয়ে তথাকথিত বিমান দুর্ঘটনার কোনোরূপ প্রমাণ মেলেনি। সে-সময়ের ভারত সরকারের পক্ষে যাঁদের সাক্ষী হিসেবে পেশ করা হয়েছিল, তদন্তে তাঁদের কেউ মৃত, কেউ দুর্ঘটনার কথা অস্বীকার করেছেন। সভায় বক্তারা জানান, বিচারপতি মনোজ মুখোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন কমিশনের রিপোর্টেও একই পর্যবেক্ষণ ছিল, তবু সে-রিপোর্ট সংসদে টেবিলে পড়ার আগেই কংগ্রেস সরকার ‘অ্যাকশন-টেকেন রিপোর্ট’ খাড়া করে তা বাতিল করে দেয়। তাইওয়ান সরকারের নথির ওপর ভারতের ওই সিদ্ধান্তের কোনো আইনগত অধিকার নেই বলেও সভায় দাবি ওঠে।
ফরওয়ার্ড ব্লকের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য অসীম সিনহা বলেন,
“মুখার্জি কমিশনের প্রতিবেদন সংসদে পুনরায় পেশ করে কেন্দ্রকে স্বচ্ছতা আনতেই হবে। ১৮ আগস্ট-র পর নেতাজীর গতিপথ নির্ধারণে একটি পূর্ণাঙ্গ, সর্বদলীয় তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানাই।”
ওই সভা থেকে সিদ্ধান্ত হয়
মুখোপাধ্যায় কমিশনের রিপোর্ট অবিলম্বে সংসদে পুনরায় উপস্থাপন করতে হবে। তাইওয়ান তদন্ত প্রতিবেদনকে সরকারি নথি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে নতুন কমিশন গঠন করতে হবে।
দেশব্যাপী জনমত গড়ে তুলতে ফের ‘নেতাজী চেতনা যাত্রা’ শুরু করবে ফরওয়ার্ড ব্লক। দলের অন্যান্য নেতারা স্মরণ করিয়ে দেন, সাংবাদিক বরুণ সেনগুপ্ত ও সাবেক সাংসদ সমর গুহ-সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি আগেও তদন্ত কমিশনের জন্য লড়াই করেছেন। “নেতাজীর অনুসারীদের সংগ্রাম প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে চলবে,”— বলেন ফরওয়ার্ড ব্লকের ব্লকের রাজ্য নেতা
অসীম সিনহা।











Post Comment