নিজস্ব প্রতিনিধি , পুরুলিয়া:
আশ্চর্য কাণ্ড! গ্রামে একের পর এক বিয়ে ভাঙছে। এমন অদ্ভুত ঘটনা কেন? পুরুলিয়া ১নং ব্লকের মানাড়া অঞ্চলের অকড়বাইদ গ্রামের দক্ষিণ বহাল সহিস পাড়া এলাকায় গিয়ে হলো রহস্যভেদ।
গ্রামে পৌঁছায়নি নল বাহিত পানীয় জল। আছে একটি মাত্র নলকূপ৷ তার জলও পানের অযোগ্য। তাই পানীয় জলের চাহিদা মেটাতে গ্রামের মানুষের সম্বল জলাশয়ের পাশে তৈরি করা চুয়া। গ্রামবাসী অম্বুজ সর্দার বলেন, “পানীয় জলের সমস্যার জন্য ভেঙে যাচ্ছে একের পর এক বিয়ে৷ মেয়ের বিয়ে দিতে চাইছেন না মেয়ের বাবা মা। “
শুনতে অবাস্তব লাগছে? এটাই কিন্তু বাস্তব।
জোড় খালের ধারে থাকা ছোট ছোট গর্ত চুঁইয়ে যে জল জমে তা সংগ্রহ করে দীর্ঘ কুড়ি বছরের বেশী সময় ধরে নিজেদের পরিবারের পানীয় জলের চাহিদা পূরণ করে আসছেন পুরুলিয়া ১নং ব্লকের মানাড়া অঞ্চলের অন্তর্গত অকড়বাইদ গ্রামের দক্ষিণ বহাল সহিস পাড়া এলাকার মানুষজন। ছোট্ট নদীটির নাম চাকা। তারই কোলে অকড়বাইদ গ্রামের দক্ষিণ বহাল সহিস পাড়ার অবস্থান। সব মিলিয়ে বসবাস করে প্রায় ১৫টি পরিবার। গ্রামের গৃহবধূ অঞ্জনা সর্দার বলেন, “একটি মাত্র নলকূপ রয়েছে এলাকায়। তার জলও ঘোলাটে। দুর্গন্ধ বার হয় জল থে পানের অযোগ্য তো বটেই সেই জল দিয়ে রান্নাবান্নাও হয় না।”
হ্যাঁ। স্বাধীনতার ৭৮ বছর পরেও সারা বছর পানীয় জল সংগ্রহের জন্য গ্রামের মানুষকে নির্ভর করতে হয় গ্রামের অদূরে জলাশয়ের পাশে তৈরি ছোট ছোট গর্তের উপর জমে থাকা জলের উপরেই। আবার নদীর মধ্যে জমাট জল অনেক দিন ধরে থাকলে তা মেশিন দিয়ে বের করে দেওয়া হয়। জল বের করে দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তারা বলেন নদীতে জমে থাকা বদ্ধ জল ফিল্টার করা হয় এইভাবে। নতুন জল এলে চুয়াতে অনেকটাই ভালো জল পাওয়া যাবে এই আশায় এমন পরিশোধন। সেই জল অনেকটা পথ পাড়ি দিয়ে সংগ্রহ করতে যেতে হয় তাদের। এ বিষয়ে প্রশাসনকে জানিয়েও মেলেনি কোন সুরাহা। অগত্যা পানীয় ও রান্নার জল সংগ্রহ করতে গ্রামের মানুষের একমাত্র ভরসা ছোট চাকা নদীর জল।











Post Comment