insta logo
Loading ...
×

কাশ্মীরের দুর্ঘটনায় মৃ*ত জওয়ানকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ঢল ঝালদার পুস্তি গ্রামে

কাশ্মীরের দুর্ঘটনায় মৃ*ত জওয়ানকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ঢল ঝালদার পুস্তি গ্রামে

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝালদা:


দেশসেবার ব্রত নিয়ে যে যুবক বাড়ি ছেড়েছিলেন। তিনি আর ফিরলেন না জীবিত অবস্থায়। গত বৃহস্পতিবার কাশ্মীরের ডোডা জেলায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় শহিদ হন ১০ জন ভারতীয় সেনা জওয়ান। তাদের মধ্যেই ছিলেন পুরুলিয়ার ঝালদা থানার পুস্তি গ্রামের বাসিন্দা, মাত্র ২৬ বছরের সেনা জওয়ান প্রদুম্ন লোহার।
শনিবার সকালে কফিনবন্দি দেহ গ্রামে পৌঁছতেই শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে গোটা এলাকা। পুস্তি হাই স্কুল মাঠে শেষবারের মতো তাঁকে এক ঝলক দেখতে এবং শ্রদ্ধা জানাতে উপচে পড়ে মানুষের ঢল। চোখের জল আর স্যালুটে ভিজে ওঠে গোটা মাঠ—গ্রাম যেন হারাল নিজের এক গর্বকে।


শোকাহত পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনার ঠিক আগের দিনই বাড়িতে ফোন করে প্রদুম্ন জানিয়েছিলেন—কাশ্মীরে ডিউটি শেষ হলে আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি ছুটি নিয়ে বাড়ি ফিরবেন। সেই খবরে আনন্দে বুক বাঁধছিল পরিবার। কিন্তু সেই প্রত্যাশার জায়গায় ফিরল কফিনবন্দি দেহ। ওই নিথর দেহকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাত‌, বাঘমুন্ডির বিধায়ক সুশান্ত মাহাত, জেলা কংগ্রেস সভাপতি তথা বাঘমুন্ডির প্রাক্তন বিধায়ক নেপাল মাহাতো। তাঁরা প্রত্যেকেই শহিদের পরিবারকে সমবেদনা জানান এবং পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

জনপ্রতিনিধিরা তাঁর স্মরণে স্থায়ী স্মারক বা উন্নয়নমূলক উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান। এদিকে মৃত জওয়ানের বাবা রোমন লোহার আবেগভাঙা কণ্ঠে জানান, “ছেলেটা দেশের জন্য নিজের জীবন দিল। ও ছিল আমাদের একমাত্র সন্তান। সরকার যদি আমাদের পাশে থাকে, সেটাই আমাদের বড় প্রাপ্তি।”

কাশ্মীরের পাহাড় থেকে পুরুলিয়ার মাটিতে ফিরে এল এক শহিদের নিথর দেহ—কিন্তু রেখে গেল অমলিন সাহস, ত্যাগ আর দেশপ্রেমের ইতিহাস।

Post Comment