insta logo
Loading ...
×

কমলা সতর্কতায় ৭ নম্বর নিম্নচাপ, খুনি বৃষ্টি নষ্ট করলো লক্ষাধিক টাকার চাল ডাল

কমলা সতর্কতায় ৭ নম্বর নিম্নচাপ, খুনি বৃষ্টি নষ্ট করলো লক্ষাধিক টাকার চাল ডাল

সুজয় দত্ত ও সুইটি চন্দ্র, পুরুলিয়া :

বর্ষার সপ্তম নিম্নচাপের জেরে টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত গোটা পুরুলিয়া জেলা। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবার ও শনিবার জেলাজুড়ে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি চলবে। ইতিমধ্যেই কমলা সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন।

কিন্তু সেই বৃষ্টিই কেড়ে নিল এক নিরীহ প্রাণ। শুক্রবার ভোরে মানবাজার ১ নম্বর ব্লকের মাকড়কেন্দি গ্রামে নিজের গোয়ালঘর থেকে গবাদি পশু বার করতে গিয়ে মাটির দেওয়াল চাপা পড়ে মৃত্যু হয়েছে ৫৯ বছরের মনজুড়া ওরফে ভীম মাহাতোর। পরিবার সূত্রে খবর, প্রতিদিনের মতো ভোরে গরু-ছাগল গোয়াল থেকে বার করছিলেন তিনি। আচমকাই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে কাঁচা দেওয়াল। স্থানীয়রা তড়িঘড়ি উদ্ধার করে মানবাজার হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। হঠাৎ মৃত্যুতে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে গোটা গ্রাম। দেহ পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তে।

এদিকে, টানা বৃষ্টিতে জেলাজুড়ে একাধিক সমস্যা তৈরি হয়েছে। কোটশিলা থানার বেগুনকোদর সেতুতে রাতভর পাহাড়ি জলস্রোত বইতে শুরু করায় বন্ধ হয়ে গেছে আড়শা থেকে ঝালদা যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ। সেতুর উপর দিয়ে যাতায়াত এখন প্রাণসংকটের সমান বিপজ্জনক। প্রশাসন জানিয়েছে, বৃষ্টিপাত না কমা পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

ঝালদা পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডও জলে ডুবে বিপর্যস্ত। ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ডেরা বস্তি এবং ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পাটঝালদা রোডে ঘরে ঘরে হাঁটু সমান জল ঢুকে পড়েছে। ক্ষোভে শুক্রবার সকালে ডেরা বস্তির বাসিন্দারা পথ অবরোধে সামিল হন। অভিযোগ, প্রতি বছর একই দুর্ভোগ হলেও স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।

সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ঝালদার ২ নম্বর ওয়ার্ডের চুনাভাটিতে। পাহাড়ি স্রোত আর শহরের হাইড্রেনের জল মিশে তৈরি করেছে জলচ্ছ্বাস। তার দাপটে ভেঙে পড়েছে রাস্তাঘাট, হেলে পড়েছে বৈদ্যুতিক খুঁটি, বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন বহু পরিবার। জলে ডুবে গাড়ি ও টোটোর ক্ষতি হয়েছে। কাঁচা বাড়ির দেওয়াল ভেঙে পড়েছে।

চুনাভাটির আইসিডিএস গুদাম সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্টোরকিপার মন্টু সিং জানিয়েছেন, গুদামে জল ঢুকে চাল, ডাল-সহ লক্ষাধিক টাকার খাদ্যসামগ্রী নষ্ট হয়ে গিয়েছে। এলাকার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক যামিনী কান্ত মণ্ডল ও হারাধন কান্দু আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন—“এভাবে চলতে থাকলে আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, ধসে পড়তে পারে বহু বাড়ি।”

শুক্রবার বিকেলে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থলে পৌঁছন ঝালদা পৌরসভার উপ-পৌরপ্রধান সুদীপ কর্মকার ও ঝালদা ১ ব্লকের বিডিও মদনমোহন মুর্মু। উপ-পৌরপ্রধান জানান, বিপর্যয় মোকাবিলা দল ও দমকল ইতিমধ্যেই কাজে নেমেছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে স্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজতে প্রশাসন পদক্ষেপ নেবে।

তবে স্থানীয় এক বেসরকারি স্কুলের কর্ণধার গৌতম চক্রবর্তী মনে করিয়ে দিলেন, “প্রকৃতিকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। আমরা নিয়ম না মেনে বাড়ি বানাই, নদী-নালা দখল করি। ফলে জলের স্বাভাবিক গতি বন্ধ হয়। বিপর্যয়ের দায় আমাদেরও।”

Post Comment