ফের জাদু দেখালো পুরুলিয়া জেলা পুলিশ
নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া :
টানটান হিন্দি সিনেমা শেষ হতেও এর চেয়ে বেশি সময় লাগে। আর তার মধ্যেই অপহরণ গ্যাং ধরে ফেলল পুলিশ। উদ্ধার অপহৃত।
মাত্র একটি কালো রঙের চার চাকা গাড়িকে কেন্দ্র করে নাটকীয় মোড়! আর সেই সূত্র ধরেই মাত্র আড়াই ঘণ্টার মধ্যে অপহৃত ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করল পুরুলিয়া জেলা পুলিশ। অভিযানে ধরা পড়েছে মোট ১০ জন অভিযুক্ত, বাজেয়াপ্ত হয়েছে অপহরণে ব্যবহৃত গাড়িটিও।
ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার বিকেলে। পাড়া থানার অন্তর্গত বৈশ্যকুলি গ্রামের বাসিন্দা, হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী সুভাষ চট্টোপাধ্যায় তখন নিজের দোকানে বসেছিলেন। অভিযোগ, হঠাৎ করেই ৭–৮ জন দুষ্কৃতি দোকানে হানা দিয়ে তাঁকে একটি কালো চার চাকার গাড়িতে জোর করে তুলে নিয়ে যায়।
অপহরণের খবর পৌঁছনো মাত্রই চাঞ্চল্য ছড়ায় পুলিশ মহলে। খবর যায় জেলা পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। তাঁর নেতৃত্বেই জেলা জুড়ে শুরু হয় কড়া নাকা তল্লাশি। সমস্ত আন্তঃজেলা ও আন্তঃরাজ্য সীমান্তে নজরদারি জোরদার করা হয়।

অবশেষে সন্ধ্যা নাগাদ সাফল্য আসে। ঝাড়খণ্ডের উদ্দেশে রওনা হওয়া সেই সন্দেহভাজন কালো গাড়িটিকে আটকানো হয় ঝালদার তুলিন আন্তঃরাজ্য নাকা পয়েন্টে। উদ্ধার করা হয় অপহৃত সুভাষবাবুকে। আটক করা হয় গাড়িতে থাকা ১০ জনকে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের সবার বাড়ি ঝাড়খণ্ডে। তাদের তোলা হয় রঘুনাথপুর মহকুমা আদালতে। ধৃতদের ৬ জনকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতে ও বাকি ৪ জনকে ৭ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, সুভাষবাবুর সঙ্গে ধৃতদের মধ্যে কোনও ব্যবসায়িক দেনা-পাওনার জেরে এই অপহরণ করা হয়ে থাকতে পারে। পুরুলিয়া পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দ্রুত নাকা তল্লাশি শুরু করি। আড়াই ঘণ্টার মধ্যেই অপহৃতকে উদ্ধার করে অপহরণকারীদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। তদন্ত এখনও চলছে।”
এই ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ ও সফল অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। অপহরণের মতো জঘন্য অপরাধে এত দ্রুত পুলিশের প্রতিক্রিয়া পুরুলিয়া জেলা পুলিশের সক্রিয়তা এবং প্রস্তুতির দৃষ্টান্ত বলেই মনে করছে প্রশাসন মহল।











Post Comment