দেবীলাল মাহাতো, আড়শা:
মোবাইল চুরিকে কেন্দ্র করে
এক যুবকের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় কলকাতা
হাইকোর্ট কেস ডায়েরি তলব করলো। আড়শার বাসিন্দা বিষ্ণু কুমারের মৃত্যুর ঘটনায়
হাইকোর্ট-র বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ বৃহস্পতিবার এই নির্দেশ দেন। ওই নির্দেশে
রয়েছে, মৃতদেহ যেন হাসপাতালের মর্গে পূর্বের অবস্থাতেই সংরক্ষিত থাকে। আগামী সোমবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।
গত ১৯ জুলাই রাতে অসুস্থ অবস্থায় বিষ্ণু কুমারকে সিরকাবাদ গ্রামীণ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যান তার পরিবারের সদস্যরা। চিকিৎসক তাকে তৎক্ষণাৎ মৃত ঘোষণা করেন। পরদিন, অর্থাৎ ২০ জুলাই আড়শা থানার পুলিশ অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে দেহটি ময়নাতদন্তে পাঠায়।
তবে পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, মোবাইল চুরির অভিযোগে ১৬ জুলাই বিষ্ণুকে থানায় ডেকে পাঠানো হয়েছিল। যেখানে পুলিশি হেফাজতে তাকে মারধর করা হয়। সেই ঘটনার পর থেকেই বিষ্ণু খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দেন।
তারপরে মৃত্যু হয় বলে দাবি পরিবারের। তারা দাবি করেন, পুলিশি মারধরের জেরেই বিষ্ণুর মৃত্যু হয়েছে।ময়নাতদন্তে পুরুলিয়া দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, বিষ্ণুর মৃত্যু একটি অসুস্থতার কারণে হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট মানতে নারাজ পরিবার। তারা মৃতদেহ গ্রহণ না করে ২১ জুলাই কলকাতা হাইকোর্টে একটি আবেদন করেন। অভিযোগ ওঠে, বিষ্ণুর মৃত্যুর বিষয়ে আড়শা থানায় অভিযোগ নিতে অস্বীকার করা হয়েছিল।
তবে ওইদিন ই-মেইলের মাধ্যমে পাঠানো অভিযোগের ভিত্তিতে আড়শা থানায় একজন অজ্ঞাতপরিচয় সিভিক ভলান্টিয়ারের বিরুদ্ধে একটি খুনের মামলা রুজু করা হয়। হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে ২১ জুলাই মামলাটি গ্রহণ করা হলেও টানা চার দিন শুনানি স্থগিত থাকে। অবশেষে বৃহস্পতিবার মামলার আংশিক শুনানি হয়। আদালত সরকারি কৌঁসুলি দীপাঞ্জন দত্তকে কেস ডায়েরি আদালতে পেশ করার নির্দেশ দেন এবং মৃতদেহ আগের মতো মর্গে সংরক্ষণে রাখার নির্দেশ জারি করেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, পরিবারের পক্ষ থেকে মৃতদেহ গ্রহণ না করায় সেটি বর্তমানে হাসপাতালের শীততাপ নিয়ন্ত্রিত মর্গে সংরক্ষিত রয়েছে।











Post Comment