insta logo
Loading ...
×

অযোধ্যা পাহাড়ে জীববৈচিত্র্য সমীক্ষা, বিরল প্রজাতি রক্ষায় পদক্ষেপ

অযোধ্যা পাহাড়ে জীববৈচিত্র্য সমীক্ষা, বিরল প্রজাতি রক্ষায় পদক্ষেপ

সুইটি চন্দ্র, পুরুলিয়া:

একটি গুরুত্বপূর্ণ জীববৈচিত্র্য মূল্যায়ন সম্পন্ন হয়েছে অযোধ্যা পাহাড় ও তার পারিপার্শ্বিক অঞ্চলে। গত রবিবার এই সমীক্ষাটি সিধো-কানহো-বিরসা বিশ্ববিদ্যালয় এবং পশ্চিমবঙ্গ জীববৈচিত্র্য পর্ষদ-র যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হয়। এটি জেলায় এই ধরনের দ্বিতীয়
কর্মসূচি। যেখানে মূল লক্ষ্য ছিল বিরল, বিপন্ন ও সংকটাপন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ যেমন সীতাপত্র, বরুণ ও ভাদু প্রজাতির বর্তমান অবস্থা ও সংরক্ষণ সম্ভাবনা পর্যালোচনা।

এই সমীক্ষার নেতৃত্ব দেন সিধো-কানহো-বিরসা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যার অধ্যাপক সুব্রত রাহা ও পশ্চিমবঙ্গ জীববৈচিত্র্য পর্ষদের গবেষণা কর্মকর্তা অনির্বাণ রায়। তাঁরা শুধুমাত্র প্রাকৃতিক পরিবেশে চিহ্নিতকরণ ও মাঠ পর্যবেক্ষণেই অংশগ্রহণ করেননি। বরং অযোধ্যা ও বাঘমুণ্ডি রেঞ্জের বনবিভাগের নার্সারিতে গিয়ে ওই রেঞ্জ কর্মীদের সঙ্গে এই উদ্ভিদগুলির চাষ ও রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত মত বিনিময় করেন। সুব্রত রাহা জানান, “এই অঞ্চলের স্থানীয় জলবায়ু ও মাটির গুণাগুণ বিশেষ কিছু গাছের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। সঠিকভাবে পরিচর্যা করলে সীতাপত্র ও ভাদু প্রজাতিগুলি পুনরুদ্ধার ও সম্প্রসারণ সম্ভব।”
অন্যদিকে এ বিষয়ে পুরুলিয়া বনবিভাগের এডিএফও
সায়নী নন্দী বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু বৃক্ষরোপণ নয়l সেই গাছগুলিকে টিকে থাকার জন্য প্রস্তুত করে তোলা। তাই নার্সারিগুলিতে চারাগুলিকে ‘হার্ডেনিং’ বা কঠিন পরিবেশে সহনশীল করে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।”

বর্তমানে সীতাপত্র ও ভাদু প্রজাতির চারা পুরুলিয়া বিভাগের অধীন নার্সারিগুলিতে লালন-পালন করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে সেগুলিকে মাঠে রোপণের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। কঠোর পরিবেশে সহনশীল হয়ে উঠলে, চারাগুলি প্রাকৃতিক পরিবেশে স্থানান্তর করে টেকসই সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বন দপ্তর এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের এই যুগ্ম প্রয়াস ভবিষ্যতে শুধুমাত্র জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রেই নয়। পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার দিক থেকেও একটি মাইলফলক হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

Post Comment