insta logo
Loading ...
×

হ্যাম রেডিওর সাহায্যে খোঁজ মিলল স্বামীর, অসহায় মা ও শিশুর পাশে পুর প্রশাসন

হ্যাম রেডিওর সাহায্যে খোঁজ মিলল স্বামীর, অসহায় মা ও শিশুর পাশে পুর প্রশাসন

নিজস্ব প্রতিনিধি ,পুরুলিয়া:

অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে পুরুলিয়া শহরে ফেলে রেখে নিরুদ্দেশ হয়েছিলেন স্বামী। মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে পুরুলিয়ায় নিয়ে এসে বাসস্ট্যান্ডে ফেলে পালিয়ে যান তিনি। অভিযোগ, স্ত্রীর গর্ভে কন্যা সন্তান আসছে জেনে শুরু হয় মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন। সেই যন্ত্রণার ছাপ এখনো স্পষ্ট গৃহবধূ লালির চোখে-মুখে, তিনি এখন মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছেন।

তবে এই সংকটের মধ্যে আশার আলো জুগিয়েছে হ্যাম রেডিও। ওয়েস্ট বেঙ্গল রেডিও ক্লাব-এর সহায়তায় খোঁজ মিলেছে পলাতক স্বামীর। বর্তমানে সেই তথ্য ধরে তদন্তে নেমেছে পুরুলিয়া সদর থানার পুলিশ ও পুরসভা প্রশাসন।

জানা গেছে, উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটির বাসিন্দা সন্তোষ সিং স্ত্রীকে পুরুলিয়া ভ্রমণের নাম করে নিয়ে এসে বাসস্ট্যান্ডে ফেলে চলে যান। এরপর অন্য এক মহিলাকে বিয়ে করে নতুন সংসার শুরু করেন। অভিযোগ, স্ত্রীর গর্ভে কন্যাসন্তান আসার খবর পেয়েই তাঁর উপর অত্যাচারের মাত্রা বাড়িয়ে দেন। সেই মানসিক আঘাতেই লালি আজ ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছেন।

গত বছরের ৩১ জুলাই, পুরুলিয়া সদর থানার পুলিশ ওই অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে উদ্ধার করে শহরের ‘শেল্টার ফর আরবান হোমলেস’-এ পাঠায়। সঠিক নাম-পরিচয়হীন ওই মহিলা জানান, তাঁর নাম মিঠু বা লালি, স্বামীর নাম রাজু। কিন্তু কোনও নথি বা ঠিকানা না থাকায় তাঁকে সরকারি হোমে রাখা হয়। পরে তিনি পুরুলিয়া দেবেন মাহাতো মেডিক্যাল কলেজে এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেন।

বর্তমানে মানসিক ভারসাম্যহীন ওই মা তাঁর সন্তানকে মেরে ফেলার চেষ্টাও করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। তাই শিশুটির নিরাপত্তার স্বার্থে তাকে মায়ের কাছ থেকে আলাদা করে অন্য হোমে রাখার উদ্যোগ নিচ্ছে পুরুলিয়া পুরসভা।
পুরপ্রধান নবেন্দু মাহালি বলেন, “ওই মহিলা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। আমরা মহকুমা শাসকের সঙ্গে আলোচনা করছি যাতে শিশুটিকে নিরাপদ হোমে স্থানান্তর করা যায়। সমাজকল্যাণ দপ্তরকেও জানানো হয়েছে।”

এই জটিল পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে হ্যাম রেডিও। মহিলার অসংলগ্ন কথা, যেমন “ভুসির দোকান”, “সত্য সাঁই মন্দির”—এসব সূত্র ধরেই ওয়েস্ট বেঙ্গল রেডিও ক্লাবের সদস্যরা তার স্বামীকে শনাক্ত করেন।
ক্লাব সম্পাদক অম্বরীশ নাগ বিশ্বাস জানান, “ঝাড়গ্রামের হ্যাম অপারেটর নির্মলেন্দু মাহাতোর সহায়তায় আমরা জানতে পারি, মহিলার নাম লালি সিং। তাঁর স্বামী সন্তোষ সিং পানিহাটির এড ফোর্ট রোড এলাকার বাসিন্দা। ওই মহিলা স্বামীর ছবি দেখে চিনতেও পারেন।”

বর্তমানে সন্তোষ সিং-এর মোবাইল বন্ধ। পুলিশ ও প্রশাসন চেষ্টা করছে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের। জানা গেছে, পানিহাটি পুরসভার এক কাউন্সিলরের মাধ্যমেই স্বামীর অতীতের নির্যাতনের কথাও জানা যায়।

Post Comment