সুইটি চন্দ্র, পুরুলিয়া:
সরস্বতী পুজো মানেই খাতা-কলম আর ফুলের সাজ। এই চেনা গণ্ডির বাইরে বেরিয়ে এবছর এক ব্যতিক্রমী ভাবনায় নজর কেড়েছে পুরুলিয়া শহরের মিউনিসিপ্যাল ম্যানেজমেন্ট উচ্চ বিদ্যালয়। বাগদেবীর আরাধনাকে কেন্দ্র করে এখানে পড়াশোনার সঙ্গে বাস্তব জীবনের যোগসূত্র তুলে ধরার চেষ্টা করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এখানে পুজো মানে শুধুই আরাধনা নয়। পুজো মণ্ডপকেই বানানো হয়েছে সচেতনতার পাঠশালা।
ছাত্র-ছাত্রীদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষা ও কল্যাণমূলক ভাবনাগুলিকে শিল্পের ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে সাজসজ্জার প্রতিটি স্তরে। কোথাও শিক্ষার সুযোগ, কোথাও ছাত্রজীবনের সহায়তা। আবার কোথাও পরিবেশ ও সংস্কৃতির সঙ্গে পাঠ্য জীবনের সংযোগ। সব মিলিয়ে এই পুজো যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক বার্তা। প্রতিমা গঠনে রাখা হয়েছে সাবেকিয়ানার ছাপ, যাতে ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিক চিন্তার মেলবন্ধন ঘটে। মণ্ডপের প্রতিটি কোণেই পুরুলিয়ার নিজস্ব সংস্কৃতি, লোকশিল্প আর শিক্ষার গুরুত্ব ফুটে উঠেছে।
তুলে ধরা হয়েছে রাজ্যের নানান জনমুখী প্রকল্প। বিশেষ করে শিক্ষা বিষয়ক প্রকল্পগুলি নজর কেড়েছে।
মিড ডে মিল, স্বামী বিবেকানন্দ স্কলারশিপ, সবুজ সাথী, শিক্ষাশ্রী, তরুনের স্বপ্ন। এই প্রকল্প গুলি যাতে প্রচার পায়
সেটাই উদ্দেশ্য স্কুল কর্তৃপক্ষের। দু’দিন ধরে নাচ, গান ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে ছাত্রছাত্রীদের সৃজনশীলতাকেও তুলে ধরা হচ্ছে। এই ব্যতিক্রমী ভাবনার স্বীকৃতি মিলেছে রাজনৈতিক মহল থেকেও। এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিদ্যালয়ের পরিচালন সমিতির সভাপতি বিলাল খানকে সরাসরি শুভেচ্ছা বার্তা পাঠান। এতে স্বাভাবিকভাবেই খুশির হাওয়া বিদ্যালয় চত্বরে।
সভাপতি বিলাল খান জানান, “সরস্বতী পুজোর মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে সরকারি প্রকল্প সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। যাতে তারা নিজেদের অধিকার ও সুযোগ সম্পর্কে জানতে পারে।” স্কুলের করনিক অনির্বাণ মণ্ডল বলেন,
“সরস্বতী পুজো মানে জ্ঞান ও বোধের আরাধনা। তাই সাজসজ্জার মধ্য দিয়ে এমন বার্তা দেওয়া হয়েছে, যা ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যতে কাজে লাগবে। এই ভাবনাটা শিক্ষারই অংশ।” পুরুলিয়ার সরস্বতী পুজোর মানচিত্রে তাই এবার এই বিদ্যালয় শুধু একটি পুজো নয়। একটি চিন্তার দিশা হয়ে উঠেছে।











Post Comment