insta logo
Loading ...
×

সংসদীয় স্তর পেরিয়ে কেন্দ্রীয় পরিকল্পনায় ঠাঁই পাচ্ছে পুরুলিয়া?

সংসদীয় স্তর পেরিয়ে কেন্দ্রীয় পরিকল্পনায় ঠাঁই পাচ্ছে পুরুলিয়া?

নিজস্ব প্রতিনিধি , পুরুলিয়া:

পুরুলিয়ার জন্য পৃথক উন্নয়ন পরিকল্পনা চাই। দিল্লির দরবারে ফের জোরালো সওয়াল করলেন জঙ্গলমহল পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো। বৃহস্পতিবার রাজধানীতে কেন্দ্রীয় শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং যুবকল্যাণ ও ক্রীড়া মন্ত্রী মনসুখ মান্ডব্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সাংসদ পুরুলিয়া জেলার জন্য দু’টি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরেছেন। সাধারণ মানুষের জন্য ইএসআইসি হাসপাতাল এবং জেলার ক্রীড়াপ্রতিভাদের জন্য স্পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার সাই স্পোর্টস সেন্টার।

সাংসদের দাবি, পুরুলিয়ার বিস্তীর্ণ আদিবাসী ও শ্রমজীবী এলাকা এখনও পর্যন্ত আধুনিক স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর বাইরে রয়ে গিয়েছে। শ্রমিক পরিবারগুলির যাতে সুলভে উন্নত চিকিৎসা মেলে, তার জন্য জরুরি ইএসআইসি হাসপাতাল। পাশাপাশি জঙ্গলমহলের বহু প্রতিভাবান খেলোয়াড় পরিকাঠামোর অভাবে পিছিয়ে পড়েন— এঁদের বিকাশে রাজ্য বা জেলাস্তরে নয়, সরাসরি সাই -এর স্পোর্টস সেন্টার গড়ে তোলা জরুরি বলে মনে করছেন সাংসদ।

শুধু কেন্দ্রীয় মন্ত্রীস্তরেই নয়, সাংসদের দাবি এবার পৌঁছল নীতি আয়োগের দফতরেও। ভাইস চেয়ারম্যান সুমন কে. বেরিকে দুটি চিঠি পাঠিয়ে পুরুলিয়ার সার্বিক উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরেছেন তিনি।

প্রথম চিঠিতে জ্যোতির্ময়বাবু অনুরোধ করেছেন, পুরুলিয়াকে যেন কেন্দ্রীয় উচ্চাকাঙ্ক্ষী জেলা কর্মসূচির আওতায় আনা হয়। তাঁর যুক্তি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অপুষ্টি ও পরিকাঠামোর মতো মানব উন্নয়নের সূচকে পুরুলিয়া এখনও রাজ্যের অনগ্রসর জেলার তকমা নিয়েই পড়ে আছে। লক্ষ্যমাত্রাভিত্তিক ও তথ্যচালিত প্রশাসনের মাধ্যমে এই কর্মসূচি সেই ব্যবধান কিছুটা হলেও ঘোচাতে পারে।

দ্বিতীয় চিঠিতে সাত দফা সুস্পষ্ট দাবি তুলেছেন তিনি— আদিবাসী ও গ্রামীণ যুবকদের জন্য দক্ষতা উন্নয়নের ব্যবস্থা,
মহিলাদের স্বনির্ভরতা ও জীবিকা সংক্রান্ত কর্মসূচি, কৃষি ও বন-ভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার উদ্যোগ, উপজাতি সম্প্রদায়ের জন্য পৃথক উন্নয়ন কৌশল,
জেলার দুর্লভ মাটির খনিজ অনুসন্ধানে কেন্দ্রীয় সহায়তা, রঘুনাথপুরকে শিল্প কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা এবং একটি জেলা-ভিত্তিক সমন্বিত উন্নয়ন রোডম্যাপ তৈরি।

দ্বিতীয় চিঠিতে সাংসদ আরও লিখেছেন, আদিবাসী সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ হলেও পুরুলিয়া এখনও বহু সূচকে পিছিয়ে। উন্নয়নের মূল স্রোতে ফিরতে গেলে জেলার জন্য লক্ষ্যভিত্তিক, সংহত, কেন্দ্রীয় সহায়তা জরুরি। কেন্দ্রের উচ্চাকাঙ্ক্ষী জেলা কর্মসূচি সেই পথেই যেতে পারে।

সাংসদ আশাপ্রকাশ করেছেন, নীতি আয়োগ এই দাবি গুলিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখবে এবং পুরুলিয়ার প্রতি যে নজর দেওয়া দরকার, তা কেন্দ্রীয় স্তরে মিলবে।

সাংসদের উদ্যোগে পুরুলিয়ার জন্য পৃথক উন্নয়ন রূপরেখা তৈরির দাবি যে এবার সংসদীয় স্তর পেরিয়ে কেন্দ্রীয় পরিকল্পনায় জায়গা করে নিতে চাইছে, তাতে সন্দেহ নেই বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Post Comment