insta logo
Loading ...
×

টুরগা প্রকল্প নিয়ে ঝালদায়সরব সিপিএমের যুব নেত্রীদীপ্সিতা

টুরগা প্রকল্প নিয়ে ঝালদায়সরব সিপিএমের যুব নেত্রীদীপ্সিতা

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝালদা:


টুরগা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পকে ঘিরে অযোধ্যা পাহাড়ের রাজনীতিতে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এই প্রকল্প এখন আর শুধু উন্নয়ন বনাম পরিবেশের বিতর্কে সীমাবদ্ধ নেই—বরং তা হয়ে উঠছে রাজনৈতিক লাভ-ক্ষতির বড় সমীকরণ!

বুধবার ঝালদা শহরের বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় সিপিএমের ‘বাংলা বাঁচাও যাত্রা’-র সভা থেকে প্রকল্পটির বিরুদ্ধে জোরালো বার্তা দেন দলের রাজ্য কমিটির সদস্যা ও সর্বভারতীয় যুব নেত্রী দীপ্সিতা ধর। তিনি অভিযোগ করেন, টুরগা প্রকল্প কার্যকর হলে অযোধ্যা পাহাড় অঞ্চলের বহু আদিবাসী ও পাহাড়ি পরিবার উচ্ছেদের মুখে পড়বে এবং পরিবেশগত বিপর্যয় অনিবার্য হয়ে উঠবে। তাঁর দাবি, উন্নয়নের নামে পাহাড় কেটে জঙ্গল ধ্বংস করা হচ্ছে, অথচ তার সামাজিক ও পরিবেশগত মূল্য নিয়ে সরকার নীরব।
এই অবস্থান এমন এক সময়ে এল, যখন শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরেই টুরগা প্রকল্প নিয়ে মতপার্থক্যের ইঙ্গিত মিলছে। সম্প্রতি বাঘমুণ্ডিতে রাজ্য তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে বলেন, পাহাড়বাসীর মতামত উপেক্ষা করে কোনও প্রকল্প চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাহাড়ি এলাকায় জনবিক্ষোভ ও আদিবাসী ভোটব্যাঙ্কের কথা মাথায় রেখেই শাসক শিবির এখন প্রকাশ্যে কিছুটা সংযত সুর নিচ্ছে। সভা মঞ্চ থেকে দীপ্সিতা ধর বিজেপি ও তৃণমূল—উভয় দলকেই একযোগে আক্রমণ করে বলেন, একদিকে উন্নয়নের নামে প্রকৃতি ধ্বংস, অন্যদিকে ধর্মের রাজনীতি—এই দুই মিলেই রাজ্যকে বিপদের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, ভোটের সময় কোনও ধরনের অনিয়ম হলে মহিলা কর্মীদের সামনের সারিতে রেখে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। ওই সভা উপলক্ষে পঞ্চশহীদ মোড় থেকে মিছিল করে ঝালদা শহরে প্রবেশ করেন সিপিএম কর্মী-সমর্থকেরা। সভায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি ছিল, বিশেষ করে মহিলাদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। সিপিএমের জেলা নেতৃত্বের দাবি, ওইদিন এলাকার ২১টি তৃণমূল পরিবার সিপিএমে যোগ দিয়েছে—যা শাসক দলের সংগঠনের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও তৃণমূল কংগ্রেস এই দাবি মানতে চায়নি। সব মিলিয়ে, টুরগা জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এখন শুধু একটি প্রকল্প নয়—এটি হয়ে উঠছে পুরুলিয়ার পাহাড়ি জনজীবন, পরিবেশ রক্ষা এবং ভোটের অঙ্কে বড় রাজনৈতিক হাতিয়ার। আগামী দিনে এই ইস্যু রাজ্য রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।

Post Comment