insta logo
Loading ...
×

উত্তরণের বিদ্যাসাগর স্মরণ পুরুলিয়া শহরে

উত্তরণের বিদ্যাসাগর স্মরণ পুরুলিয়া শহরে

নিজস্ব প্রতিনিধি,পুরুলিয়া:

শিক্ষা ও সংস্কৃতিচর্চার মাধ্যমে সমাজে আলোর দিশা দেখাতে ‘উত্তরণ’ বরাবরই অগ্রণী। সেই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার বিকেল চারটেয় পুরুলিয়া রেলস্টেশন সংলগ্ন গান্ধী হাই স্কুল প্রাঙ্গণে আয়োজিত হলো প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক অনুষ্ঠান ‘বিদ্যাসাগর স্মরণে শ্রদ্ধাঞ্জলি ও বিজয়া সম্মিলনী’।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একালের বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক, শিক্ষাবিদ ও সিধো-কানহো-বীরসা বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতনামা অধ্যাপক ড. স্বপন কুমার মণ্ডল। তিনি তাঁর গভীর মর্মস্পর্শী বক্তব্যে বিদ্যাসাগরের জীবনদর্শনের প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেন।

ড: মণ্ডল বলেন, “বিদ্যাসাগর কোনও আদর্শের অনুগামী নন, তিনিই এক অনন্য আদর্শ। তিনি মহৎ বাণী প্রচারে নয়, নিজের কর্মের মধ্য দিয়েই সমাজে মানবিকতার সার্থক উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। কোনও প্রতিষ্ঠান, মঠ বা আন্দোলন গড়ে না তুলেও তিনি একাই সমাজ সংস্কারের এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। আজ, তাঁর জন্মের দুই শতাব্দী পরও আমরা গবেষণায় তাঁর দিকগুলিকে খণ্ড খণ্ড করে দেখছি, অথচ তাঁর পূর্ণ সত্তাকে উপলব্ধি করতে পারছি না — এটাই সবচেয়ে বেদনাদায়ক।”

সভামঞ্চে উপস্থিত ছিলেন অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক উজ্জ্বল দাস, গেঙ্গাড়া হাই স্কুলের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক শ্রীজীব রায়, মণিপুর স্বামী বিবেকানন্দ হাইস্কুলের শিক্ষক ড. কার্তিক কুমার মণ্ডল, গবেষক বিকাশ কালিন্দী, ও বর্ষীয়ান শিক্ষক সনাতন কর-সহ বহু বিশিষ্ট শিক্ষক, অধ্যাপক ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিত্ব।

অনুষ্ঠানের সূচনা হয় বিদ্যাসাগরের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্পণ ও প্রদীপ প্রজ্বলনের মধ্য দিয়ে। উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন করেন শিক্ষিকা শিখা পাণ্ডা, বর্ণালী দত্ত ও দেবর্পিতা পাল।

অনুষ্ঠান উপলক্ষে ড. মণ্ডল
আরও বলেন, “আজকের এই অনুষ্ঠানে এত মানুষের অংশগ্রহণ দেখে আমি মুগ্ধ। শীতের আগমনী হাওয়ায় যে উষ্ণতার ছোঁয়া এই সম্মেলনে অনুভব করছি, তা শিক্ষার প্রতি মানুষের ভালোবাসাকেই প্রতিফলিত করছে।”

‘উত্তরণ’-এর পক্ষ থেকে প্রাক্তন সহকারী জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক পঙ্কজ পাল অনুষ্ঠানটি দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করেন।
অসংখ্য অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা, বর্তমান শিক্ষক, অধ্যাপক ও শিক্ষাপ্রেমীদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি এক মননশীল ও আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করে।

Post Comment